শনিবার, ১১ Jul ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ন

রোমাঞ্চকর ফুটবলের গল্প

প্রত্যাবর্তনের অবিশ্বাস্য এক গল্প লিখল রিয়াল মাদ্রিদ। গতবার সেমিফাইনালে ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করে চেলসির মাঠে গিয়ে ০-২ গোলে হেরেছিল জিনেদিন জিদানের দল। এবার স্টামফোর্ড ব্রিজে প্রথম লেগ ৩-১ গোলে এগিয়ে থেকেও শঙ্কা যাচ্ছিল না তাদের। কারণ চেলসির সঙ্গে লড়াইয়ে ইতিহাস তাদের পক্ষে না। ৬ লড়াইয়ের তিনটিতেই হেরেছিল তারা আগে। টমাস টুখেলের দল আবার সেটা প্রমাণও করেছে। সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর সিংহভাগ দর্শককে হতাশায় ডুবিয়ে ৭১ মিনিটে তিন গোলে এগিয়ে গিয়ে ৪-৩ ব্যবধানের লিড নিয়েছিল তারা। কিন্তু এরপরই কোচ আনচেলত্তির দুর্দান্ত এক চালে লড়াইয়ে ফেরে রিয়াল। লড়াই ৪-৪ সমতায় এনে খেলাকে টেনে নিয়ে যান অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে। তার ষষ্ঠ মিনিটে ভিনি জুনিয়ের চিপে করিম বেনজেমার দুর্দান্ত হেড থেকে গোল। চেলসি দ্বিতীয় লেগ জিতলেও, গোল গড়ে ৫-৪ ব্যবধানে তাদের হারিয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালে উঠে যায় রিয়াল মাদ্রিদ।

ফিকে হয়ে যাওয়া আশা পুনরুজ্জীবিত করতে, লড়াইয়ে ফিরতে যেকোনো মূল্যে গোল চাই- ম্যাচের শুরু থেকে চেলসির খেলায় ফুটে ওঠে এই মরিয়া ভাব। রক্ষণরেখাকে ওপরে তুলে এনে একইসঙ্গে দারুণ সব আক্রমণের পাশাপাশি ঘরও রাখে আগলে। রিয়ালের কারও পায়ে বল গেলেই তাকে ঘিরে ধরছিল দুই-তিন জন। তাতে প্রথম কয়েক মিনিটে তো নিজেদের অর্ধ থেকে বের হতেই পারছিল না স্বাগতিকরা। ম্যাসন মাউন্টের গোলে (১৫ মি.) আত্মবিশ্বাসী শুরুর পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে গতবারের চ্যাম্পিয়নরা। পুরো মাঠেই প্রতিপক্ষকে কোণঠাসা করে রাখে তারা। দ্বিতীয়ার্ধেও একইভাবে শুরু করে (৫১ মিনিটে) অ্যান্টোনিও রুডিগারের লক্ষ্যভেদের পর ৭৫ মিনিটে টিমো ভারনারের দারুণ গোলে চালকের আসনে বসে যায় তারা (৩-০)। দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৩ গোলে এগিয়ে চেলসি। সেমিফাইনাল তখন তাদের দৃষ্টিসীমায়। সেমিফাইনাল ফসকে যাচ্ছে দেখে আক্রমণের ধার বাড়াতে কাসেমিরোকে তুলে রদ্রিগোকে নামান আনচেলত্তি। সিদ্ধান্তটা কতটা সঠিক ছিল, তার প্রমাণ মিলে যায় দু’মিনিট পরই। লুকা মদ্রিচের অসাধারণ এক ক্রসে দারুণ ভলিতে বল জালে জড়ান ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড (১-৩, দুই লেগ মিলিয়ে ৪-৪)। ম্যাচের বাঁক বদলে যায় এই গোলে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com